Home > আন্তর্জাতিক > ‘সংখ্যালঘু’র তকমা পাচ্ছেন ভারতের ৮ রাজ্যের হিন্দুরা

‘সংখ্যালঘু’র তকমা পাচ্ছেন ভারতের ৮ রাজ্যের হিন্দুরা

ভারতের ৮টি রাজ্যে হিন্দুদের মর্যাদা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে । দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে বলে ভারতীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে পার্সটুডে। জানা গেছে লাক্ষাদ্বীপ, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, জম্মু ও কাশ্মীর, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং পাঞ্জাবে হিন্দুরা সংখ্যালঘু মর্যাদা পেতে পারেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হলেই রাজ্যগুলোর হিন্দু জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘুর স্বীকৃতি পাবে এবং সেই হিসেবে তারা সুযোগ-সুবিধাও পাবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৯২ সালে অযোধ্যা কাণ্ডের পর মুসলিম সম্প্রদায়কে খুশি করার উদ্দেশ্যে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করে। এর গেজেট প্রকাশ হয় ১৯৯৩ সালে। যেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও পার্সী এই পাঁচটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গেজেটের ২(গ) ধারায় বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার যাদের সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করবে কেবল তারাই সংখ্যালঘু হবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে উল্লিখিত ৮টি রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। এর মধ্যে লাক্ষাদ্বীপ রাজ্যে ২.৫ শতাংশ ও মিজোরাম রাজ্যে ২.৭৫ শতাংশ হিন্দু।

এ ছাড়া নাগাল্যান্ড ৮.৭৫ শতাংশ, মেঘালয় ১১.৫৩ শতাংশ, জম্মু ও কাশ্মির ২৮.৪৪ শতাংশ, অরুণাচল ২৯ শতাংশ, মণিপুর ৩১.৩৯ শতাংশ এবং পাঞ্জাব রাজ্যে মোট জনগোষ্ঠীর ৩৮.৪০ শতাংশ হিন্দু।

পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখন চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে যে, আদমশুমারি অনুযায়ী সংখ্যালঘু বিবেচনার প্রক্রিয়াটি করা উচিত। আর সে হিসাবেই রাজ্যগুলোর হিন্দুরা সংখ্যালঘু মর্যাদা পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেটা যদি হয়, তাহলে জম্মু ও কাশ্মিরের মুসলিমরা এবং পাঞ্জাবের শিখরা সংখ্যালঘু হওয়ার মর্যাদা হারাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষ থেকে ওই রাজ্যগুলোর হিন্দুদের সংখ্যালঘুর মর্যাদা দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় ২০১৭ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত এক আবেদন জানান। তার দাবি, এসব রাজ্যের হিন্দুদের সংখ্যালঘুর মর্যাদা দেওয়া উচিত এবং সেইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের যে অধিকার রয়েছে সেটাও তাদের পাওয়া উচিত।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*