Home > খেলাধুলা > আগস্টেই সচল হচ্ছে দেশের ক্রিকেট!

আগস্টেই সচল হচ্ছে দেশের ক্রিকেট!

জীবন কিন্তু থেমে নেই। করোনা সংকট, শঙ্কা আর উদ্বেগের মধ্যেও জীবনের প্রয়োজনে ছুটছে মানুষ। প্রাণঘাতি করোনার সংক্রমনের শঙ্কা মাথায় রেখেই জীবন-জীবিকার সন্ধানে ঘরের বাইরে লাখ-কোটি কর্মজীবি।

একইভাবে করোনায় কয়েক মাস সব বন্ধ থাকলেও কঠিন বাস্তবতায় ধীরে ধীরে সচল হওয়ার পথে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনও। হাজার হাজার কোটি টাকার লিগ কতদিন বন্ধ থাকবে? তাই করোনার ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ও জনপ্রিয়র ক্লাব ফুটবল লিগগুলো (লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, সিরি-আ, বুন্দেশলিগা কিংবা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)।

বিশ্ব নন্দিত ও জনপ্রিয় ক্লাব বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদিদ্রের মত দল খেলছে সেই দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। সবই হচ্ছে সময়ের প্রয়োজনে। একই ভাবে দর্শক ছাড় শুরু হয়েছে টেস্ট ক্রিকেটও। ইংল্যান্ডে গিয়ে টেস্ট সিরিজ খেলে ফেলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানও খেলার অপেক্ষায় অবস্থান করছে এখন যুক্তরাজ্যে।

অন্য দেশের ক্রিকেটাঙ্গনও ধীরে ধীরে সরব হওয়ার প্রহর গুনছে। এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিত হয়ে গেলেও ভারতের সাড়া জাগানো আসর আইপিএল ঠিকই অনুষ্ঠিত হবে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়ে গেছে আলোচিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি আসরের।

ভারতের করোনা পরিস্থিতি ভাল না মোটেই। বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ। সংক্রমণ ও প্রাণহানি অনেক বেশি। তাই নিজ দেশে না পেরে ভিনদেশে আইপিএল আয়োজনেরর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কারণ একটাই- আইপিএল না হলে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি।

তাই করোনা ভাল না হওয়ার আগেই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। যেহেতু সাকিব নিষিদ্ধি, তাই এবারের আইপিএলে প্রতিনিধিত্ব থাকছে না শুধু বাংলাদেশের।

ওদিকে ঘরোয়া ক্রিকেট চালু করতে না পারলেও পাকিস্তানও সিরিজ খেলতে জাতীয় দল পাঠিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডে। পাকিস্তানীরা বর্তমানে রীতি মেনে ইংলিশ কাউন্টি দলগুলোর সাথে ট্যুর ম্যাচ খেলায় ব্যস্ত।

ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগ সিপিএল চালুর প্রক্রিয়া শেষ। শ্রীলঙ্কাও তাদের মাটিতে ক্রিকেট আয়োজনের কথা ভাবছে। মোটকথা করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই ধীরে ধীরে সরব হওয়ার পথে বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গন।

বাকি শুধু বাংলাদেশ। সে অর্থে বাংলাদেশই একমাত্র প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ, যাদের সে অর্থে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ও পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না।

করোনা এরইমধ্যে কেড়ে নিয়েছে ৫ টি সিরিজ। দেখতে দেখতে আর বুঝতে বুঝতেই চার মাস পাড় হয়ে গেছে। কাজেই বিসিবির বিলম্বিত উপলব্ধি , আর হাত পা গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বসে থাকলে নিজেদেরই সমস্যা। ক্ষতি। যত দেরিতে মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু হবে , তত বেশী ক্ষতি হবে। দেরিতে প্রস্তুতি শুরুর কারনে মাঠে নেমে পারফরমেন্স হবে খারাপ।

তাই সাত-পাঁচ ভেবে এবং বাস্তবতা মেনেই ক্রিকেটীয় কার্যক্রম চালুর কথা ভাবতে হচ্ছে বিসিবিকে। জাতীয় দলের পাশাপাশি, এইচপি ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের তৈরির ব্যবস্থাও করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুই অন্যতম শীর্ষ কর্তা জালাল ইউনুস আর আকরাম খানও আজ জাগো নিউজের সাথে আলাপে একথা স্বীকার করেছেন।

তাদেরও মত, আসলে ক্রিকেট এখন সারা বছরের খেলা। বছরের নির্দিষ্ট সময়ের আয়োজন নয়। করোনার প্রাণ সংহারি রূপ সবার জন্যই ভয়ের এবং চিন্তার; কিন্তু এর মধ্যেও যতটা সম্ভব নিরাপদে থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি না নিয়ে সবাই কম বেশি প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। দেবেও। আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে। আমরা যত দেরি করবো, তত বেশি ক্ষতি হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে নিজেদের জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়স ভিত্তিক দল, ‘এ’ দল, এইচপি দল তৈরি করে অনুশীলন শুরুর বিকল্প নেই। আর তাইতো শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দল পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে।’

জানা গেছে ঈদের পর করোনার প্রকোপ কমে আসলে জাতীয় দলের অনুশীলন শুরুর চিন্তা-ভাবনা প্রায় চূড়ান্ত। একই সাথে বিকেএসপিতে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আবাসিক ক্যাম্প চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে জোরে সোরে।

এখন সব কিছুই নির্ভর করছে আসলে করোনা পরিস্থিতির ওপর। বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের এক নির্ভরশীল সূত্রের খবর, করোনা পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলে আগস্টের প্রথম দিকে না হলেও মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় দলের অনুশীলন শুরু হবে শেরে বাংলায়। একই সময়ে বিকেএসপিতে যুব দলের (অনুর্ধ্ব-১৯) আবাসিক ক্যাম্প শুরুরও সম্ভাবনাও খুব বেশি।

আর পাশাপাশি ক্রিকেটারদের প্রাণশক্তি প্রিমিয়ার লিগ শুরুর কথা নাকি ভাবা হচ্ছে জোরে সোরে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর নাগাদ প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর চিন্তাও চলছে। শেষ কথা, আগস্টের মাঝামাঝি হয়ত দেশের ক্রিকেটের স্থবিরতা কেটে আবার প্রাণের সঞ্চার ঘটবে।

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*